দেশের সম্পদ রক্ষা, অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত অপরাধ দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাঙামাটির কর্ণফুলী নদীতে অভিযান চালিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া ৫৯৪ কেজি বাংলাদেশি রসুন জব্দ করেছে বরকল ব্যাটালিয়ন (৪৫ বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণফুলী নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটি থেকে ছোট হরিণা অভিমুখী নদীপথে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি রসুন ভারতে পাচারের গোপন তথ্য পায় বরকল ব্যাটালিয়ন। তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন সদরের ১ নম্বর জিপি গেটের সামনে নদীপথে বিশেষ নজরদারি ও তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় সন্দেহজনক চারটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তল্লাশি চালায় বিজিবির বিশেষ টহল দল। তল্লাশির একপর্যায়ে নৌকাগুলো থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫৯৪ কেজি বাংলাদেশি রসুন উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, জব্দ করা রসুনগুলো সুকৌশলে নদীপথে নিয়ে গিয়ে প্রতিবেশী দেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। উদ্ধার করা রসুনের সর্বমোট সিজার মূল্য ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা।
নদীপথে চোরাচালানের এমন একটি চালান পাচারের আগেই জব্দ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিজিবির গোয়েন্দা তৎপরতা ও নদীপথে নজরদারির কার্যকারিতা আবারও সামনে এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও বিস্তৃত নৌপথকে ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা যাতে দেশের পণ্য অবৈধভাবে পাচার করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে নিয়মিত টহল ও আকস্মিক তল্লাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে চোরাচালান প্রতিরোধ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও স্থানীয় বাজারের স্থিতিশীলতাও জড়িত। বাংলাদেশি পণ্য অবৈধভাবে পাচার হলে একদিকে যেমন দেশের বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারায়। ফলে নদীপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির এ ধরনের অভিযান চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
বরকল ব্যাটালিয়ন (৪৫ বিজিবি) জানিয়েছে, দেশের সম্পদ রক্ষা এবং যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নদীপথ, সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বিজিবির এ ধরনের তৎপরতায় সীমান্ত ও নদীপথে অবৈধ পণ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চোরাচালানকারীদের তৎপরতা নিরুৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের সম্পদ ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় বিজিবির এই অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
মন্তব্য করুন