গতকাল টার্মিনাল পরিদর্শনের পর মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে টার্মিনালটি দিনে প্রায় ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। পরে সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে।
বেবিচক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সমঝোতায় আসার আগে এই আলোচনা কয়েক দিন চলতে পারে।
বেবিচকের মুখপাত্র মুহাম্মদ কায়সার মাহমুদ বলেন, ‘জাপানি সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপের জমা দেওয়া প্রস্তাবের কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে এখন আলোচনা শুরু হয়েছে; তা আরও কয়েক দিন চলতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘থার্ড টার্মিনাল সফলভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় লেটার অভ অ্যাশিউরেন্স পেতে মন্ত্রণালয় পর্যায়েও কাজ চলছে। আমরা আশা করছি শিগগিরই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’
জাপানি কনসোর্টিয়ামের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, ‘রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টি ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে। চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করতে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি খুব বড় কোনো বিষয় নয়; আশা করছি চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হবে।’
মন্ত্রী মিল্লাত বলেন, সরকার ১৬ ডিসেম্বরে আংশিক চালুর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। তবে চলমান আলোচনা থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তার একটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
তিনি জানান, অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) প্রক্রিয়া ৫৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। কনসোর্টিয়াম ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলো বাকি ৪৩ শতাংশ কাজ শেষ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আংশিক চালুর তিন থেকে পাঁচ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে বলে মিল্লাত আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে টার্মিনালটির ‘সফট ওপেনিং’ হয়েছিল। কিন্তু ইকুইপমেন্ট ইন্টিগ্রেশন ও অপারেশনাল রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফারের কার্যক্রমসহ অপরিহার্য প্রস্তুতির কাজগুলো তখন সম্পন্ন হয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থমকে থাকা কাজ পুনরায় শুরু করে এবং জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে আলোচনা শুরু করে।
রাজস্বের ভাগ বৃদ্ধি
মিল্লাত জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর টার্মিনাল পরিচালনার মাধ্যমে অর্জিত রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটা একটা সুখবর। কারণ রাজস্বের বর্ধিত এই অংশ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধে সাহায্য করবে।’
মন্ত্রী জানান, বেবিচক ইতিমধ্যেই তাদের অন্যান্য আয়ের উৎস থেকে ঋণের কিস্তি হিসেবে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে; ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান টার্মিনালগুলো এবং অন্যান্য এভিয়েশন কার্যক্রম থেকে প্রাপ্ত আয় ঋণ পরিশোধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই আর দেরি না করে থার্ড টার্মিনাল চালু করা গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানি কনসোর্টিয়ামের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র টিবিএসকে বলেছে, ‘রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়টি ইতোমধ্যেই নিষ্পত্তি হয়েছে। চুক্তির নথিপত্র চূড়ান্ত করতে নতুন দফায় আলোচনা শুরু হয়েছে। এটি খুব বড় কোনো বিষয় নয়, আমরা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে চাই।’
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং
মিল্লাত বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বিদেশি অপারেটরের মধ্যে কীভাবে গ্রাউন্ড-হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব ভাগ করা হবে, তা-ও এই আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তিনি টার্মিনাল পরিচালনার কাজে বিমানের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং তাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীদের ব্যাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে অপারেটিং কনসোর্টিয়ামকে। নির্ধারিত এই সময়সীমা মানা না হলে জরিমানা করার ক্ষমতা বেবিচকের রয়েছে।
মিল্লাত বলেন, টার্মিনালে স্থাপিত সরঞ্জামগুলো প্রতিদিন পরীক্ষা করা হচ্ছে; পরিদর্শনের সময় এগুলো ভালোমতো কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, পুরোপুরি চালু হওয়ার পর থার্ড টার্মিনাল বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতা প্রায় চারগুণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে এটি ২০০ থেকে ২৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে।
বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান মন্ত্রী।