রাঙ্গামাটিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজনে ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির অনন্য চিত্র তুলে ধরেছে শহরের রিজার্ভ বাজার এলাকার শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দির। শতাধিক প্রতিমার মাধ্যমে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন যেন বহুত্ববাদ, সহাবস্থান ও সম্প্রীতির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বপ্নের ‘রেইনবো নেশন’-এর বার্তাও তুলে ধরছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরারও উপলক্ষ। সেই ভাবনাকে সামনে রেখে গীতাশ্রম মন্দিরে সাজানো হয়েছে বৈচিত্র্যময় প্রতিমা। আয়োজনটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন অসংখ্য দর্শনার্থী।
মন্দিরে আসা মনু মারমা জানান, এবারের দুর্গোৎসবে রাঙ্গামাটির সবচেয়ে আকর্ষণ হলো গীতাশ্রম মন্দিরে দুর্গাপূজায় পাহাড়ে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ঐতিহ্য তুলে ধরা। এ ধরনের আয়োজন আমাদের সকলের মাঝে সম্প্রীতি ও ভাতৃত্ববোধ আরো শক্তিশালী করবে।
শারদীয় দুর্গোৎসবে গীতাশ্রম মন্দিরে সাজানো শত প্রতিমাগুলোর মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীরা দেখতে পাচ্ছেন সমতল ও পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠিদের ধর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের নানা দিক। এর মধ্যে শ্রী শ্রী গীতাশ্রম মন্দিরের শতাধিক প্রতিমার আয়োজন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
এদিকে, আজ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে দুর্গাপূজার মহানবমী। আয়োজকদের এ উদ্যোগ স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখছে। গীতাশ্রম মন্দিরের পাশাপাশি জেলা ও উপজেলার অন্যান্য পূজামণ্ডপেও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ বছর রাঙামাটি জেলায় মোট ৪৭টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। ধর্মীয় বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে পাহাড়ের জনপদ রাঙ্গামাটি।
মন্তব্য করুন