চুল পরিষ্কার করে গোসলের পর পরিচ্ছন্ন চিরুনি ব্যবহারে মেলে স্বস্তি। তবে চিরুনি দিনের পর দিন পরিষ্কার করা না হলে, পরিষ্কার চুলেই জমে তেল, ময়লা ও চুলের পরিচর্যার বিভিন্ন উপাদান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিরুনিও চুলের মতো নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ শুধু চুলের সৌন্দর্য নয়, মাথার ত্বকের পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেও পরিষ্কার চিরুনির সম্পর্ক রয়েছে।
জারা’স বিউটি লাউঞ্জ অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টারের প্রধান ফারহানা রুমি বলেন, “চুলের যত্নে চিরুনির ব্যবহার প্রতিদিনের অভ্যাসের অংশ। চুল আঁচড়ানোর সময় মাথার ত্বকের তেল, ঝরে পড়া চুল, ধুলো-ময়লা এবং চুলে ব্যবহার করা বিভিন্ন পরিচর্যার উপাদান চিরুনিতে জমে যায়।
একবার-দুবার ব্যবহারে তা চোখে না পড়লেও নিয়মিত পরিষ্কার না করলে ধীরে ধীরে চিরুনিতে এর পরিমাণ বাড়তে থাকে। পরে সেই চিরুনি দিয়েই পরিষ্কার চুল আঁচড়ালে জমে থাকা ময়লা ও তেল আবার, চুল ও মাথার ত্বকে ফেরত যায়।”
নিজের চিরুনি সাধারণত নিজেই ব্যবহার করা হয় বলে অনেকেই মনে করেন এটি বারবার পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই।
তবে এই রূপ-বিশারদ বলেন, “চিরুনিতে শুধু চুলই জমে না, মাথার ত্বক থেকে আসা তেল এবং চুলের পরিচর্যায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপাদানও জমে থাকে। ফলে নিয়মিত পরিষ্কার না করলে চিরুনিটি ধীরে ধীরে ময়লা হয়ে ওঠে।”
শুধু চুল নয়, জমে মাথার ত্বকের তেলও
চিরুনিতে আটকে থাকা ঝরে পড়া চুল সহজেই চোখে দেখা যায়। তবে এর সঙ্গে এমন অনেক কিছু জমে থাকে, যা সব সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না।
মাথার ত্বকের তেল, ধুলো এবং চুলের পরিচর্যার বিভিন্ন উপাদান চিরুনির দাঁত বা আঁশের মধ্যে আটকে থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে এসবের আস্তরণ আরও ঘন হয়।
নোংরা চিরুনি ব্যবহার করলে এসব জমে থাকা উপাদান আবার পরিষ্কার চুলে ফিরে যায়। এর ফলে চুল ভারী ও তেলতেলে মনে হতে পারে।
একই সঙ্গে মাথার ত্বকে অস্বস্তি বা খুশকির মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
চিরুনিতে জীবাণু জমার আশঙ্কা
“চিরুনি পরিষ্কার না করার আরেকটি সমস্যা হল- এতে জীবাণু, ছত্রাক ও পরজীবী জমে থাকার সুযোগ তৈরি হওয়া। আর পরিষ্কার না করলে এগুলো বারবার মাথার ত্বকে ফিরে গিয়ে প্রদাহের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে”, বলেন ফারহানা রুমি।
চিরুনির মধ্যে চুলের জট পাঁকানো থাকলেও সমস্যা তৈরি করে। চুল সরিয়ে পরিষ্কার করে রাখলে চিরুনির ওপরের অংশ মসৃণ থাকে এবং আঁচড়ানোর সময় চুল সহজে চলাচল করতে পারে।
ফলে চুল আঁচড়ানোও তুলনামূলক সহজ হয়।
কত দিন পরপর পরিষ্কার করবেন?
চিরুনি কত ঘন ঘন পরিষ্কার করতে হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। তবে এই বিশেষজ্ঞ সপ্তাহে একবার চিরুনি থেকে আটকে থাকা চুল সরিয়ে সেটি ভালোভাবে পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
কারও ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি ঘন ঘন পরিষ্কার করার প্রয়োজন হতে পারে।
এছাড়া চুলে বিভিন্ন পরিচর্যার উপাদান ব্যবহার করলে, চুল বা মাথার ত্বক বেশি তেলতেলে হলে চুল বেশি ঝরে পড়লে চিরুনি দ্রুত ময়লা হতে পারে।
সেক্ষেত্রে কয়েক দিন পরপর পরিষ্কার করার প্রয়োজন হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে দুই সপ্তাহে একবার পরিষ্কার করাও যথেষ্ট হতে পারে।
তবে চিরুনিতে চোখে পড়ার মতো পরিমাণে ঝরে পড়া চুল জমলেই সেগুলো সরিয়ে ফেলা উচিত। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের অপেক্ষা না করে চিরুনির অবস্থা দেখে পরিষ্কার করার অভ্যাস করাই ভালো।
সহজে চিরুনি পরিষ্কার করার পন্থা
চিরুনি পরিষ্কার করার পদ্ধতিও খুব জটিল নয়। প্রথমে চিরুনিতে আটকে থাকা অতিরিক্ত চুল সরিয়ে নিতে হবে। এরপর গরম পানিতে মৃদু সাবান মিশিয়ে চিরুনিটি কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখা যায়।
এই রূপচর্চাকর, ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মতে, “এমন মৃদু ও গন্ধহীন প্রাকৃতিক সাবান ব্যবহার করা ভালো, যা চিরুনিতে অতিরিক্ত আস্তরণ রেখে যায় না।”
ভিজিয়ে রাখার পর চিরুনিতে আটকে থাকা চুল ও ময়লা সরিয়ে ফেলতে হবে। এরপর চিরুনিটি খোলা জায়গায় রেখে শুকাতে দিতে হবে।
ফারহানা রুমির পরামর্শ অনুযায়ী, “রাতভর বাতাসে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে। শুকানোর সময় চিরুনির দাঁত বা আঁশ নিচের দিকে রাখা ভালো, যাতে ভেতরে পানি জমে না থাকে।”
চিরুনির ধরন যাই হোক, পরিচ্ছন্নতা জরুরি
চিরুনি কাঠ, প্লাস্টিক, ধাতু, উদ্ভিজ্জ আঁশ বা প্রাণীর লোমের মতো বিভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি হতে পারে। উপাদান আলাদা হলেও নিয়মিত পরিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকে।
কারণ যে উপাদান দিয়েই চিরুনি তৈরি হোক না কেন, ব্যবহারের সময় এতে চুল, মাথার ত্বকের তেল এবং চুলের পরিচর্যার উপাদান জমতে পারে।
তবে চিরুনি পরিষ্কার করার সময় সেটির ধরন ও উপাদানের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
যদি চিরুনির কাঠামোর ভেতরে পানি ঢুকে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার সম্ভাবনা থাকে, তবে সেটি পরিষ্কার করার পর ভালোভাবে শুকানোও জরুরি। কারণ পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যই হল, ময়লা দূর করে চিরুনি পরিচ্ছন্ন রাখা।
কখন পুরোনো চিরুনি বদলাবেন?
শুধু পরিষ্কার করাই সব নয়। পুরানো চিরুনি ব্যবহারযোগ্যতাও হারায়।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর, বিশেষ করে চিরুনির দাঁত বা আঁশ নষ্ট হয়ে গেলে, ভেঙে গেলে কিংবা এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে যা চুল বা মাথার ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করে, তখন সেটি বদলে ফেলার কথা ভাবা উচিত।
মন্তব্য করুন