বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ রাজধানীর চারপাশের নদী-খাল-ড্রেনের দূষণ রোধ ও বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন এবং ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ’-সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং সংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
গাজী শাহরিয়ার পামির বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত নদী ও পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যেতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে নেওয়া পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সহকারী প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।’
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং নৌবাহিনীর কমান্ডার, ঢাকা নৌ অঞ্চল রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ-আল-মাকসুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে এক বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বৈঠকে সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও তা মোকাবেলার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি সরকারি সংস্থার ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
হাসান শিপলু বলেন, বাড়িঘরসহ আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ, ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি না হওয়ার বিষয়ে মানুষকে আরো সচেতন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট কর্মীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। তাঁদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে জনগণকে যুক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে।
বৈঠকে উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ও রোগী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানো, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী পর্যাপ্ত রাখা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ব্যবহারের জন্য মশারি সরবরাহের বিষয়েও আলোচনা হয়। আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতেই মশারি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। উপ-প্রেস সচিব বলেন, বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মাঠে এর প্রতিফলন থাকা চাই।’
বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন