পাঁচ দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল আজিম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধি, ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেম চালু, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বাস্তবায়ন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও ছাত্রলীগের সব অপকর্মের বিচারের দাবিতে তিনি প্রতি দিন সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন বলে ঘোষণা দেন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে তিনি এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাফিউল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে উত্থাপিত তার দাবিসমূহ ছিল ন্যূনতম ২শ একরের ক্যাম্পাস, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইমপ্রুভ সিস্টেম চালু, বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৭৩ এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, একাডেমিক ভবন ও হলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, ছাত্রলীগের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত বিভিন্ন অপকর্ম যেমন খুন, গুম, গণরুম প্রথা চালু, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতকরণ।
সামিউল আজিম বলেন, প্রায় ২০ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ৩৫ একরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর। এমনকি আবাসিক হলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির মতো মৌলিক সুবিধাও নিশ্চিত হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
আমাদের দাবি স্পষ্ট, ৩৫ একরের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়কে দ্রুত ২শ একরে উন্নীত করতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে ২৪ ঘণ্টা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর পাঁচ দফা দাবির মধ্যে ২শ একর জমি, ইমপ্রুভমেন্ট সিস্টেম ও অর্ডিন্যান্স এবং পানির সমস্যা সমাধানের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ পানির বিষয়ে কাজ করছে এবং কেন্দ্রীয় ফিল্টার ব্যবস্থার কাজও চলছে। তবে ৭৩-এর অ্যাক্টের আওতায় যাওয়ার দাবিতে জটিলতা রয়েছে; কারণ দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এ আইনের আওতায় যায়নি।
মন্তব্য করুন