বান্দরবানের রুমা উপজেলায় মিজোরামফেরত বম পরিবারের পুনর্বাসন, দরিদ্র মানুষের আর্থিক ও উপকরণ সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন এবং অসহায় পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোন। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের মিজোরাম থেকে বান্দরবানের রুমা উপজেলার হ্যাপিহিল পাড়ায় দুটি পরিবারের ৯ জন, লাইরুনপি পাড়ায় একটি পরিবারের ৫ জন এবং মুন্নুয়াম পাড়ার দুটি পরিবারের ৩ জন সদস্য নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। তাঁদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তার লক্ষ্যে রুমা জোনের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রান্নার সামগ্রী, সোলার সিস্টেম ও নগদ অর্থসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
পুনর্বাসন সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় পরিবারগুলোর জীবিকা নির্বাহ ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টিতেও উদ্যোগ নিয়েছে সেনাবাহিনী। মুন্নুয়াম পাড়ার লাল রুয়াদ্দান বম, এ্যালভেজ বম, ফ্লেক্স বম ও জেনিবিশ বমের মধ্যে মোট ১২টি ছাগল ও ১২টি টিন বিতরণ করা হয়েছে। এসব সহায়তা তাঁদের পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া মুনলাই পাড়ার জিং যোফ কিমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার অংশ হিসেবে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন উপলক্ষে মারমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন এবং বড়ুয়া পাড়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ সহযোগিতা স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রতি সেনাবাহিনীর সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অসহায় পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিয়েছে রুমা জোন। রুমারচর নিচের পাড়ার মৃত মংচাইসিং মার্মার দুই মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ছোট মেয়ে হ্লা খিং প্রু মার্মার পড়াশোনার ব্যয় বহনে সহায়তা এবং বড় মেয়ে মেসিংউ মার্মাকে দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ছোট মেয়েটির শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বড় মেয়েটির কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, মিজোরামফেরত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন, দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, ধর্মীয় উৎসবে সহযোগিতা এবং শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বিতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টিতে রুমা জোনের এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সেনাবাহিনীর পারস্পরিক আস্থা, শান্তি, সম্প্রীতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন