দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ব কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিলে (কেপিএম) কালেক্টিভ বার্গেনিং এজেন্ট (সিবিএ) নির্বাচনে আবারও শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ সিবিএ নির্বাচীত হয়েছে। এনিয়ে শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ ৫ম বারের মতো সিবিএ নির্বাচিত হলো।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে শান্তিপূণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ভাবে অনুষ্ঠানের জন্য মিল কর্তৃপক্ষ থানা পুলিশ ও আনসার প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্যাহ এবং কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রায়হানুল ইসলাম। তারা সিবিএ নির্বাচনী পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন চলাকালে কোথাও কোন রকম অপ্রতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, কেপিএমে বর্তমানে তিনটি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে। সংগঠন গুলো হলো- কেপিএম শ্রমিক কর্মচারী পরিষদ(রেজিঃ নং-২৬২১), কেপিএম ওয়ার্কাস ইউনিয়ন(রেজিঃ নং-২৭৫০) এবং কেপিএম এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৮)। এরমধ্যে কেপিএম শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ(চাকা), কেপিএম ওয়ার্কাস ইউনিয়ন(ছাতা) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও
কেপিএম এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (হাতুড়ী) নির্বাচনে অংশ নেয়নি।
সবমিলে মোট ভোটার সংখ্যা ১১৭ জন। এর মধ্যে কেপিএম শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ(চাকা) প্রতীক নিয়ে ১০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়। কেপিএম ওয়ার্কাস ইউনিয়ন(ছাতা) প্রতীক পেয়েছে মাত্র ১০ ভোট। অবশিষ্ট ৬ ভোটের মধ্যে ৪টি ভোট দেয়নি এবং ২ টি ভোট নষ্ট হয়।
এদিকে, ভোট গণনা শেষে চট্টগ্রাম শ্রম দপ্তরের যুগ্ন শ্রম পরিচালক সাব্বির আহমেদের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের কমিটি ফলাফল ঘোষনা করেন। এতে কেপিএম শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ(রেজিঃ নং-২৬২১) ‘চাকা’ প্রতীককে বিজয়ী ঘোষনা করা হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেপিএমের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
মিলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সূত্র জানায়, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে বর্তমান সিবিএর মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ পূর্তির ১২০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্য বাধকতার মধ্যে গত (২৯ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম শ্রম দপ্তর থেকে নির্বাচন সংক্রান্ত এক পত্র মারফত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন ধার্য্য করে। সে অনুযায়ী বুধবার(৭ অক্টোবর) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
এদিকে, নব নির্বাচীত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু সরোয়ার নির্বাচন পরবর্তী এক শ্রমিক সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, আপনার যে বিশ্বাস নিয়ে আমাদের নির্বাচীত করেছেন আমরা সে বিশ্বাস রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাব। কেপিএমের দৈন্যদশা কাটিয়ে মিলকে সচল রাখতে কাজ করে যাব।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের বৃহত্তম এই কাগজ কলটি বয়সের ভারে আজ ন্যুব্জ। পুরো কারখানাটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কারখানার ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে পুনরায় নির্বাচীত সিবিএ মিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে বলে মিলের কর্মজীবীরা আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন