কাপ্তাইয়ে ডেঙ্গুর প্রার্দুভাব দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। উপজেলার পাশাপাশি অন্যান্য উপজেলা বিশেষ করে বিলাইছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকেও জ্বর নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর হতে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪৭ জন ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছন। এরমধ্যে ৩০ পজিটিভ পাওয়া গেছে। মোট ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৩ জন মহিলা। বর্তমানে মাত্র ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য কমপপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ১০ দিনে মোট ২৫ রোগী হাসপাতাল চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। ১ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছে। চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও ১৩ জন মহিলা। এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি।
বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহলা অং মারমা জানান, সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় চলতি মাসে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। কাপ্তাই উপজেলার পাশাপাশি বিলাইছড়ি ও পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়া উপজেলা থেকেও জ্বর নিয়ে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছে কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চিকিৎসক ও নার্সের কিছুটা সমস্যা থাকলেও সবচেয়ে বেশি সমস্যা রয়েছে ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীদের। যারা হাসপাতাল সহ আশপাশের এলাকা পরিস্কার রাখবে। ৪র্থ শ্রেনির কর্মচারীর অভাবে ঠিক মতো হাসপাতাল পরিস্কার করা সম্বব হচ্ছে না।
এছাড়া, স্যালাইন, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর কিছু ঘাটতি রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর পাশাপাশি অন্যান্য রোগীর চাপ থাকায় স্বল্প সংখ্যক লোকবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে নিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এদিকে, ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। এছাড়া মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে মশারি ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন এবং জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে।
এদিকে, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও মশক নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। ফলে বাড়িঘরের আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সম্ভব হলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মত প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন