পার্বত্য চট্টগ্রামের বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে ১০ দিনব্যাপী যানবাহন মেরামত প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি সদর জোনের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টায় রাঙামাটি সদর জোন মাঠের প্রশিক্ষণ শেডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সদর জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত। এ সময় সদর জোনের ক্যাপ্টেন সাদমান রাফিদ বিন আজসহ সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জোন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. একরামুল রাহাত বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এ অঞ্চলে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালিসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। এ প্রয়োজন বিবেচনায় দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই সেনাবাহিনীর উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা নিজেদের বেকারত্ব দূর করার পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন।
১০ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে রাঙামাটি জেলার প্রায় ২১ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাঁদের যানবাহন মেরামতসংক্রান্ত ব্যবহারিক জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ তরুণদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে যানবাহন মেরামতের মতো কারিগরি পেশায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে কাজ শুরু করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগও খুঁজে নিতে পারবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রীতি ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি, বেকারত্ব হ্রাস এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন