পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ও যুগ যুগের জীবনযাত্রার সঙ্গে মিশে থাকা জুম চাষে এবার ভালো ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। কৃত্রিম কোনো সেচ ব্যবস্থা ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে পাহাড়ের ঢালে গড়ে ওঠা এই চাষাবাদে রাঙামাটির নানিয়ারচরে চলতি মৌসুমে কেবল হলুদ চাষই হয়েছে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে।
নানিয়ারচর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এই উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে জুম পদ্ধতিতে হলুদের আবাদ করা হয়েছে। পাহাড়ি মাটি ও আবহাওয়া হলুদ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় প্রতি বছরই জুম চাষিরা হলুদ উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জুম চাষের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্থানীয় জুমচাষিরা জানান, পাহাড়ের ঢালে এই চাষাবাদ সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক নিয়মে করা হয়। এখানে কৃত্রিম উপায়ে কোনো সেচ বা পানি দেওয়ার ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয় না। সম্পূর্ণভাবে আকাশের বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করেই জুমের ফসল বেড়ে ওঠে।
জুম চাষের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া ও নিয়ম সম্পর্কে স্থানীয় জুমচাষি রূপালী চাকমা জানায়,জুম চাষের শুরুতেই প্রথমে পাহাড়ি ঝোপঝাড় ও জঙ্গল কেটে রোদে শুকানো হয়। এরপর চৈত্র-বৈশাখ মাসে শুকানো জঙ্গল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে জমি প্রস্তুত করা হয়। প্রথম বৃষ্টির পর ভেজা মাটিতে দা দিয়ে ছোট ছোট গর্ত করে একসাথেই ধান, হলুদ, মরিচ, কলা,মারফাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলের বীজ বপন করা হয়। পরবর্তীতে সময়মতো নিড়ানি দিয়ে সঠিক দেখভালের মাধ্যমেই ফসল ঘরে তোলা হয়।
এদিকে চলতি বছরের ফলন ও জুমের সার্বিক অবস্থা নিয়ে জুমচাষি রিতন চাকমা জানান,আকাশের পানি ঠিকঠাক পাওয়ায় এবার জুমের হলুদ ও অন্যান্য ফসলের অবস্থা বেশ ভালো। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ায় জুমের হলুদের স্বাদ ও গুণগত মান অন্য যেকোনো হলুদের চেয়ে আলাদা। তবে সঠিক বাজারজাতকরণ ও ন্যায্যমূল্য পেলে আমরা জুমচাষিরা আরও লাভবান হতে পারব।
মন্তব্য করুন