পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন খাত ধ্বংস, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহতকরণ এবং বাস-পরিবহন সেক্টরে সশস্ত্র চাঁদাবাজির অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটি।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান ও মহাসচিব শাব্বির আহম্মেদ এবং পিসিসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন কায়েস ও সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম পাহাড়ে আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর লাগামহীন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং পর্যটন ও পরিবহন খাতকে জিম্মি করার তীব্র সমালোচনা করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, রাঙামাটির সাজেকে তথাকথিত ‘কার্বারী এসোসিয়েশন’ ও ‘গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’র ছদ্মবেশে মূলত সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসীত) সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবৈধ অবরোধ ডেকে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। সাধারণ পাহাড়ি ও কার্বারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাজেকে পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের রুজি-রোজগার বন্ধ এবং পাহাড়কে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য পার্বত্য অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার, সীমান্ত অঞ্চলের অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান ও চাঁদাবাজির রুট বহাল রাখা।
বান্দরবানের থানচি প্রসঙ্গ উল্লেখ করে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সেখানে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) বাস ও জীপ মালিক সমিতির নিকট ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। চাঁদার দাবির প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার অভাবে গত দুই দিন ধরে থানচিগামী সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে মালিক সমিতি। এছাড়া ডিম পাহাড় ও থানচি সদরের বিভিন্ন পয়েন্টে ভারী অস্ত্র হাতে সন্ত্রাসীদের মহড়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
যৌথ বিবৃতিতে পিসিএনপি ও পিসিসিপির পক্ষ থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়:
১. সাজেকে আটকে পড়া পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অবিলম্বে সাজেক সড়কে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল পুনর্বহাল করা।
২. সাজেকে ছদ্মনামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী বাবুধন চাকমা, নতুন জয় চাকমাসহ ইউপিডিএফের ইন্ধনদাতা এবং থানচিতে গণপরিবহনে চাঁদা দাবি করা জেএসএস সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
৩. পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ইউপিডিএফ ও জেএসএসের চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা।
৪.পর্যটন খাত ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাহাড়ে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
সংগঠন দুটির নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর এমন ধৃষ্টতা পাহাড়ি-বাঙালি সাধারণ জনগণ মেনে নেবে না। অনতিবিলম্বে পাহাড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা ফেরাতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মন্তব্য করুন